জন্মদিনে

ভারী সুন্দর একখানা কলম দিয়ে
অজয় আমাকে বলেছিল ,
" আরো আরো অনেক কবিতা চাই"
একথালা মিষ্টি এনে দীপক বললে,
"তোমার জীবন মধুময় হোক" ।
বৌ আর ভাইপো মিলে ব্যস্ত ভীষণ
টেলিফোনে মেয়ের তদারকি -
কাদের কাদের আসার কথা আজ ।
মা-তো এখন শরীর নিয়ে পারেন না কিছুই
সজ্ঞানেতেই আশীর্বাদ করেন।
অনেকক্ষণ বসে ছিলেন পাশে
কিছু না বলেই অনেককিছু বলে গেলেন আমায়।
অফিস থেকে তলব এসেছিল, "আসতে হবে"
আমি বললুম, আবার কেন ?
আমিতো প্রাক্তনী রে !
সম স্বরে হেসে উঠলো সবাই ।
বললে, "এখনও কি আমাদের 
                   হাজিরা খাতাই ভাবো ?"

আমি তো সুকুমার বা শিবরাম ন‌ই
এত সুন্দর বলতে পারি না । 
রবি ঠাকুর যেমনটি বলেন -
"জন্মদিন আসে বারেবারে
মনে করাবারে -
এ জীবন নিত্য‌ই নূতন
প্রতি প্রাতে আলোকিত
পুলকিত
দিনের মতন ।"
কবিতার মালঞ্চে জন্ম হয় 
প্রতিবার নতুন কবিতায় ।
আমার কলমে তেমন শক্তি ক‌ই ?
আমি শুধু অবাক হয়ে তাদের‌ কথা শুনি।

জন্মদিন আমার কাছে বড়‌ই অদ্ভুত
কি মনে হয় জানিস ?
দীর্ঘ যাত্রা পথে যেন
এক একটা পেট্রোল পাম্প ।
এখানেই থেমে জীবনের রসদ নিই আমি।
একটু জিরিয়ে নিয়ে
ছুটি জীবনের পরবর্তী ঠিকানায়।

আবার কখনো কী মনে হয় জিনিস--
জন্মদিনটা আসলে একটা
ফ্যামিলি গেট টুগেদার ।
ফ্যামিলি বলতে আমায় ঘিরে যারা
সশরীরে বা ভার্চুয়াল মিডিয়ায় -
সবাই আমরা এক‌ই পরিবারের।
বছর জুড়েই সবাই যারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকি
টেলিফোনেও কম কথা হয়।
ইচ্ছে থাকলেও পেরে উঠি না ।
এই একটা দিন ছুটে আসেন সবাই,
কানে কানে বলেন আমায়, ওরে,
তুই আছিস, সত্যি আছিস, জীবন্ত
এখনও -- মনের মনিকোঠায়।
আমি তখন নতুন করে জীবন খুঁজে পাই ।

সকাল থেকেই ভাসতে থাকি ফোন আর শুভেচ্ছাতে
একটা একটা নাম যেন বন্ধ করা খাম
ভেতরে তার স্মৃতির মুক্তো ঠাসা।
আমি তখন হারিয়ে যাই একটি দিনের জন্য
সময়ের বুকে বসে সাপলুডো খেলি।

যদিও দিনটি আমায় ফিসফিসিয়ে বলে
"আরো একটা বসন্ত চলে গেল
যে কাজে আসা তোমার, সব র‌ইল জমা
মেঘে মেঘে বেলা বয়ে যায়", 
তবু কবির ভাষা পাল্টে দিয়ে
ইচ্ছে করে উদার কন্ঠে বলি,
মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে
তোমাদের মাঝে আমি বাঁচিবারে চাই,
তোমাদের স্নেহ, মায়া সিক্ত ফল্গু ধারায়
অনন্ত কাল আমি অবগাহন করি।

সুপ্রদীপ দত্তরায়

Comments