বন্ধু


ভেবেছিলাম তোমার সাথে দেখা হবে তাই -
সেই কাকভোরে পাঞ্জাবিটা চড়িয়ে
গিয়েছিলাম জেলা ক্রীড়ার মাঠ।
এবার নাকি ওখান থেকেই জমায়েতের শুরুয়াত ।
এককালে বছরের এই দিনটা…
থাক, মন খারাপের কথা!

সমীরকে ফোন করেছিলাম—
ওর গণেশ পূজা,
সুজাতার ঘর ভর্তি গেস্ট,
তাপসীর এই একটি দিন ছুটি—
সবার জন্যই পৃথক মেনুফেস্ট !
নম্রতার পায়ে ব্যথা,
নাগশঙ্করের লোক আসেনি ঘরে,
কমলেশকে পাঁঠা কিনতে হবে -
সবাই ব্যস্ত, নিজের মতো করে।

আমি যখন পৌঁছে গেছি মাঠে,
ধীরে ধীরে লোক বাড়ছে সেথায়—
ট্যাবলোগুলো এদিক-ওদিক ছড়ানো,
কিছু ‘রাখাল’, কিছু ‘গোপাল’—ভীষণ ব্যস্ত ।
কেন রাখাল ? তুমিও জানো -
ওরা ভালোবাসে গান কবিতা,
কথা কয় হেসে, তবে ওইটুকুই -
চাইলেই একঝটকায়
পাল্টে দেবে মন, তেমনটা নয় ।
ওদের দৌড় স্টেশন অবধি শেষ —
আমি তো নিজেই পাঁঠা,
আমার আবার কী!

তোমার সাথে হয়নি দেখা—
দুঃখ নেই।
তোমার মতো দাদা-দিদিমণির
‘উলের কাঁটা’ জীবন,
চায়ের কাপে পোস্টমর্টেম—
সেই থোড় বড়ি খাড়া!
তোমার সাথে হয়নি দেখা, ঈশ্বরের লীলা!
তুমি কিন্তু অনেকটাই পাল্টে গেছো— বলো?

সকাল থেকেই শোভাযাত্রা,
লোকের পিঠে লোক—
কিন্তু যাদের আসার কথা,
তারাই আসেনি!
মাঝে মাঝে দুঃখ হয়—
তবুও বলি,
ভালো থেকো বন্ধু—
ইলিশ আর পাঁঠায়,
রাবড়ি, রসগোল্লায়,
ভালো থেকো অনায়াসে, সমাজেই প্রবাসে—
ভালো  থেকো বন্ধু।
এলো বছর
আরো ভালো কাটুক তোমার ! 

Comments