বসেছিলাম দুপুরের ভাতঘুম সেরে
ঘাটের কোণে শ্যাওলা-ঢাকা ছায়ায়।
তুমি ডাকলে— “এসো, ছাদে যাই।”
আমি বললেম— “হঠাৎ? এখনই?”
তুমি হাসলে একটুখানি— “সময় যে যায়!”

দূরের আকাশে আঙুল ছুঁয়ে বললে—
“দেখো, কী সুন্দর সেজেছে আকাশ!”
আমি অবাক— এত রূপ লুকিয়ে ছিল গায়ে!

তুমি বললে—
“দেখো, প্রেমে মত্ত ওরা—
প্রতিদিনের সূর্য সাথে সদ্য যুবতী ধরা !
কত কথা, আবেগ-আবেশ জড়ানো বেশ !”
আমি বলি—
“এ আবার এমন কী কথা!
এমন প্রেম তো রোজই ঘটে— 
 হাটে, ঘাটে, মাঠে!”
তুমি হেসে বললে—
“না, কক্ষনো তা না।
ওটা শোষণ, শাসন, আর দেনা-পাওনার কথা—
রোজ রোজ প্রেম হয় না।
শুদ্ধাচারে নিজেকে অর্ঘ্য ভেবে নিবেদন করা -
প্রেম তারে কয় , বাকি সব দিনগত পাপক্ষয় !"

“দেখো, বৃষ্টিস্নাত আকাশ কী সুন্দর—
চোখ-মুখ জুড়ে তার অপার্থিব স্নিগ্ধতা।
মেঘেরা সাত রঙা স্বপ্নে সেজেছে -
বাতাসে ইমনের সুর—
সদ্যস্নাত ষোড়শী পৃথিবী, যেন কুমারী কন্যা -
ফুল-লতা-পাতা ভরা অতল যৌবন।
দেখো, কী মায়াবী লজ্জা সারা গায়—
এখনই প্রেমের সময়।”

তারপর এক সমুদ্র নীরবতা পেরিয়ে,
তুমি বললে ধীরে—
“চলো, এবার পানসি ভাসাই।”

Comments