সেদিন মাঘী পূর্ণিমা দুপুর, গঙ্গার ঘাটে -
তুমি আর আমি হাতে হাত রেখে বহুক্ষণ বসা,
দূর বহুদূরে, এক গাঙচিল একা, মেলে তার ডানা
কার উদ্দেশ্যে দিশাহীন ব্যস্ত ভ্রমণে ।
সূর্য তখন পূর্ব সীমা সবে ছাড়িয়েছে !
আমাদের তাড়া নেই, তাড়া শুধু সময়ের
কালের হিসেব মেনে কলের নৌকোটি
বারবার হাঁক দিচ্ছিল ক্রমাগত
নিঃস্তব্ধ ঘাটে, নৈঃশব্দতা ভেঙ্গে, ভীষণ বিরক্তিকর !
তুমি মৌনতা ভেঙ্গে এই প্রথম বললে,
"এবার যে যেতে হবে !"
নিমেষে বুকে বাঁজলো স্টীমারের ভোঁ- পোঁ ।
আধো উচ্চারণে বললাম, "আরও ছ'টা মাস -
আমি কি পারি না পেতে শেষবারের মতো ?"
একটা দীর্ঘশ্বাস, তোমার মৃদু স্ফীত ঠোঁটে ।
হাতখানা টেনে নিয়ে তুমি বললে, "আর কত ?
এই নিয়ে টানা ছ-ছ'বার, এইবার বিদায়ের পালা !
কাল আশীর্বাদ, সাতাশেতে বিয়ে -
যদি পারো, ভালো -, নইলে আমন্ত্রণ রইল !"
তুমি চলে গেলে, আমি রইলেম বসে ।
তারপর, একটা একটা পাহাড়-রাত্রি পেরিয়ে
আজ সেই অভিশপ্ত সাতাশ। বাইরে মৃদুমন্দ বাতাস,
ঘড়িতে আটটা, তুমি এখন বধুঁ সাজে
ভরা সভা আলো করে বসা । আমি একা -
ভানু নেই, নেই নিশাকর, গাঙচিলও নেই,
শুধু এক সারমেয়, নিঃস্বার্থ পাহারায় নিঃস্তব্ধ রাতে !
ভেবেছিলেম রাত ফুরোলেই খবর হয়ে যাবো,
কিন্ত নাঃ, এইবার অবশেষে, মন থেকেই মুক্তি দিলাম !
Comments
Post a Comment